চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে প্রতিদিন এক কোটি লেনদেনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এ লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে বাটন ফোনের ব্যবহার বড় প্রতিবন্ধকতা বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। চট্টগ্রামের র্যাডিসন ব্লু হোটেলে গতকাল বাংলা কিউআরে লেনদেনসংক্রান্ত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আওতায় পরিচালিত ‘ক্যাশলেস ডিজিটাল বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের অংশ হিসেবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে দেশের প্রায় ছয় কোটি মানুষ বাটন ফোন ব্যবহার করেন। তাদের হাতে অ্যান্ড্রয়েড ফোন ও ইন্টারনেট সুবিধা নেই। এ কারণে স্বল্পমূল্যে গ্রাহকদের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন সরবরাহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘দেশে টাকা ছাপাতে বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু করা গেলে এ অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। এছাড়া চাঁদাবাজি ও জাল নোটের ঝুঁকি কমার পাশাপাশি নগদ টাকা পরিবহনের ঝুঁকিও কমবে।’
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ ও আইএফসির প্রতিনিধি হাসান শাহরিয়ার।
কর্মশালায় ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ বলেন, ‘বর্তমানে দেশে প্রায় ২৪ লাখ মার্চেন্ট বাংলা কিউআর ব্যবহার করছেন। প্রতিদিন প্রায় দুই লাখ লেনদেন হচ্ছে, যার আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি টাকা।’ কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কর্মশালায় ২০ জন নারীসহ প্রায় ১২০ জন বাংলা কিউআর ব্যবহারকারী মার্চেন্ট অংশ নেন। সাধারণ গ্রাহক ও মার্চেন্টদের মধ্যে ডিজিটাল লেনদেন, বিশেষ করে বাংলা কিউআরের সুবিধা ও সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
কর্মশালায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগ ১-এর অতিরিক্ত পরিচালক মো. পারওয়েজ আনজাম মুনির, যুগ্ম পরিচালক জুয়েল মজুমদার ও মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন তিনটি সেশন পরিচালনা করেন। এসব সেশনে বাংলা কিউআরের ব্যবহার পদ্ধতি, সুবিধা, প্রয়োজনীয়তা ও সচেতনতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
পরে গভর্নর মার্চেন্টদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি বাংলা কিউআর ব্যবহারের অভিজ্ঞতা, ক্রস-বর্ডার পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু, লেনদেনের চার্জ কমানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে মার্চেন্টদের প্রশ্নের উত্তর দেন।
কর্মশালায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চট্টগ্রাম অফিসের নির্বাহী পরিচালক মো. হানিফ মিয়া, পরিচালক (প্রশাসন) স্বরূপ কুমার চৌধুরী, পরিচালক (পরিদর্শন) মো. নুরুল আলম, পরিচালক (ব্যাংকিং) ইয়াসমিন রহমান বুলা, পরিচালক (বৈদেশিক মুদ্রা) মাহবুবুর রহমানসহ বাংলা কিউআর বাস্তবায়ন ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।